একজন শিক্ষক চাইলে বিশ্ব পরিবর্তন করতে পারেন। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঠিক তেমনই করেন। কিন্তু এর ভিতরে পরোক্ষভাবে তাঁরা বেশি পরিবর্তন করেন। এটা বলার কারণ, আজকে যদি আমি একজনকে দেখি সে বেশ দায়িত্বশীল। আমার বিশ্বাস খবর নিয়ে দেখা যাবে যে, সে অবশ্যই একজন শিক্ষকের দ্বারা অনুপ্রাণিত।
এ. পি. জে. আবুল কালাম বলেছিলেন, তিনজনই পারেন একটি দেশ ও জাতিকে বদলাতে। তাঁরা হলেন বাবা, মা ও শিক্ষক।
এই বিষয়টি আরো বিশেষ করে বুঝানোর জন্য একটি বাস্তব গল্প বলি, একটা ছেলে ছিলো যার হাতের একটি নক বড় ছিলো। বিষয়টি সকলে স্বাভাবিক ভাবে নিলেও হঠাৎ একদিন একজন শিক্ষকের চোখে ঐ নকটি পরে। অতঃপর তিনি ঐ ছেলেটিকে বুঝালেন, এটা কোন ভালো কাজ নয়, ভালো ছেলেরা এরকম হাতে নক রাখে না। আরো এরকম নানাবিধ কথা বললো। তারপর ঐ ছেলেটি বাসায় গিয়ে নকটি কেটে ফেললো।
আপনাদের মনে হতে পারে উপর্যুক্ত গল্পটি একদম মন গড়া, কাল্পনিক কিংবা বাস্তবিক কোন ভিত্তি নেই। এরকম যাতে মন না হয় সেই জন্য আমি প্রমাণ রেখেছি। প্রমাণ আমি নিজেই। হ্যাঁ, ঠিক অনুমান করেছেন- ঐ ছেলেটি আমি এবং শিক্ষক হলেন, সামিয়া ম্যাডাম।
এখন ঐ গল্পের সাথে যদি কোন ঘটনাকে তুলনা করি তাহলেই বুঝা যাবে একজন শিক্ষক কিভাবে বিশ্বকে পরিবর্তন করতে পারেন। ঐ নাকটিকে কোন বড় সমস্যা ভাবুন এবং সেই সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় ঐ শিক্ষকের কথা গুলো। তাহলে দেখুন খুব সহজে সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। এটাই হলো শিক্ষকের ক্ষমতা।
শ্রদ্ধেয় গাজী সামিয়া সুলতানা ম্যাডাম সবার থেকে ভিন্ন। তিনি কেমন করে যেন বিভিন্ন দায়িত্ব তাঁর নিজের করে নেন। একদিন কলেজের সমাবেশে বেশ কিছু শিক্ষার্থীরা ৬ তলা থেকে সমাবেশে নামছে না। আমি তখন নিজে সমাবেশে ছিলাম। হঠাৎ করে ৬ তলায় তাকাতেই দেখি সামিয়া ম্যাডাম শিক্ষার্থীদের নিচে নামিয়ে আনছেন। কলেজের লিফট বন্ধ থাকা কালিনী সময়ে একজন শিক্ষক এভাবে সিঁড়ি বেয়ে উঠে শিক্ষার্থীদের আনবেন এই বিষয়টি সত্যই দুষ্কর। কিন্তু তিনি সেটা তিনি সম্ভব করেছেন।
একদিন জাতীয় সংগীত চলাকালীন সময়ে তিনি আমাদের সমাবেশের এপাশে দারিয়ে ছিল। তারপর সমাবেশ শেষ হওয়ার পর তিনি গেলেন। কিন্তু এর আগে কয়েকজন শিক্ষক জাতীয় সংগীত চলাকালীন সময়ে হেটে চলে গেলেন। ম্যাডামের জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন আমাদের আরো গভীর ভাবে শিখিয়েছে, জাতীয় সংগীত তথা দেশ সম্পর্কে ভাবতে।
"আমি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী না হওয়াতে তাঁর ক্লাস করতে পারিনি। তবে ২০২১ সালে, একদিন আইসিটি ক্লাস নিয়েছিলেন। সেজন্য আমি তাঁর প্রতি বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ।
কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি অনেক কিছু শিখিয়েছেন। সেই সকল শিক্ষা এবং তাঁর মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনার জন্য তাকে অনেক স্মরণ করবো।"
নানা বিষয়ে তিনি আমাদের জানিয়েছেন। ম্যাডামের সম্পর্কে যতই বলি না কেন সেই বলা কখনও ইতি হতে পারে না। বলা যায় ছোটগল্পের বৈশিষ্ট্যের মত, 'শেষ হয়ে হইল না শেষ'।
~ মুহাম্মদ আল ইমরান।




Post a Comment